আমাদের বনি। মুক্তিযুদ্ধের গল্প

আজ আমাদের ছোট্ট বনির প্রথম বিজয় দিবস।আজ বিদেশে সংসার, কাজ, ছোট্ট বনিকে দেখে রাখার মাঝে ভুলেই গিয়েছিলাম আজ বাংলাদেশের বিজয় দিবস।

‘বনি’ নামটি আমার ছেলেকে তার নানা আদর করে ডাকেন। কিন্তু এই নামে রয়েছে বাংলাদেশি মুক্তিযুদ্ধে ১৪ বছরের আরেক বনির গল্প।

১৪ বছরের বনি চলে মুক্তির সংগ্রামে ১৯৭১ সালে। সাথে নিয়ে যাবার কথা তার সব থেকে প্রিয় বন্ধু, বাবু, ভীষণ লাজুক ও আদুরে লালন পালন করা মায়ের একই ছেলে। আর বনি অনেক ভাই বোনের ভিতর ‘রাফ এন টাফ’।

বাবুর মাকে রাজি করিয়ে বাবুকে পিকনিক এ নিয়ে যাওয়া, বাবুর মায়ের অনুরধে বাবুকে সোয়েটার পরতে রাজি করাতে নিজেও একই ধরনের সোয়েটার কিনে পরা, একসাথে টিচার এর বাসা জাওয়া, সবই বাবু আর বনি একসাথে করতো। কিন্তু যুদ্ধে জাবার বেলায় বনি বলল, আমি যাই তারপর তুই চলে আসিস। বাবু তখন বুঝতে পারেনি, বনি হয়ত তাকে কঠিন যুদ্ধ থেকে দূরে রাখতে চাচ্ছে।

১৬য় ডিসেমবড় ১৯৭১ সালে, দেশ বিজয় এর পর বাড়ি ফিরছিল বনি। খুশিতে আত্তহারা যুবক মুক্তিযোদ্ধারা নৌকায় উঠে আকাশে গুলি করে। তারা বিজয়ের খুশিতে এত মেতে ছিল, বুঝতে পারেনি যে একটা গুলি এসে পরতে পারে নৌকাতে। বনি সহ আর ১৩জন মুক্তিযোদ্ধা কেও বাড়ি ফিরেনি।

সেই বনির নামে আজ আমার ছেলে, যায়ান হাফিজ-খান, কে আদর করে নানা, তার ছোট্ট মুক্তিযোদ্ধা বন্ধু বনি নামে ডাকেন। আমাদের বনি বড় হলে যেন বুঝতে পারে, আদর করা নানার দাওয়া সেই নামের পিছনে নিজ দেশের মুক্তিযুদ্ধের গল্প।